মন্ত্রীসভার ব্যর্থ সদস্যদের জবাবদিহিতা নেই কেন?

0

প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার ওপর মূলতঃ সংসদীয় গণতন্ত্রে মন্ত্রীদের চাকরি নির্ভর করে। প্রধানমন্ত্রী যে কোনও মন্ত্রীকে যে কোনও সময় অপসারণ করতে পারেন অথবা পদত্যাগ করতে বলতে পারেন। ২য় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার সময়কালের প্রান্ত সীমায় এসে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের ১০ মাস আগে সরকারের কিছু মন্ত্রীর অদক্ষতা, ব্যর্থতা এবং অযোগ্যতা পুরো সরকারের সাফল্যকে ম্লান করে দিচ্ছে। হাতে গোনা কজন মন্ত্রীর ব্যর্থতার বোঝা বইছে আওয়ামী লীগ সরকার। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, মন্ত্রিসভার ব্যর্থরা কি জবাবদিহিতার উর্দ্ধে? তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন?

প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে। শিক্ষামন্ত্রীর অসহায় আত্মসমর্পন করেছেন দুর্বৃত্তদের কাছে। মন্ত্রণালয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ এবং কতৃত্ব দুইই হারিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা। জাতীয় সংসদে একবার নয় কয়েকবারই তাঁর পদত্যাগের দাবি উঠেছে। শিক্ষামন্ত্রীর উপর জনগণের ক্ষোভ সরকারের কাঁধে স্থানান্তরিত হচ্ছে।

দেশের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো একমাসের বেশি সময় ধরে অচল। কমিউনিটি ক্লিনিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ ১০ টি উদ্যোগের অন্যতম। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারাবিশ্বে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার জন্য এটি একটি অনন্য মডেল। বিএনপি জামাত জোট ২০০১ সালে ক্ষামতায় এসে কমিউনিতি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু তারপরও কিছু স্থানে মানুষ স্ব-উদ্যেগে কমিউনিটি ক্লিনিক চালিয়েছিল। বিএনপি-জামাত কমিউনিটি ক্লিনিকের যে ক্ষতি করতে পারেননি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী একাই সেই ক্ষতি করেছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মন্ত্রণালয়ের জন্য সময় নেই। তিনি ব্যস্ত নানা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে।

দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়ে গত ১৮ জানুয়ারি এক প্রতিবেদনে ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতির আখড়া হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ওই প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ ব্যক্তিদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মন্ত্রণালয় চলছে বলেও মন্তব্য করা হয়।’ দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেনাকাটার নামে এই মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির উৎসব চলছে। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী ধরাছোঁয়ার বাইরে। দুদক যখন তাঁর মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে ১৭ টি সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ এনেছে তখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের শীতল পাটি উপহার দিয়ে শীতল করে রেখেছেন।

আর অর্থমন্ত্রী তো সব জবাবদিহিতার উর্দ্ধে। তিনি নিজেই একেকটা ব্যাংক লুটপাটের ‘রাবিশ’ তথ্য জাতির সমানে তুলে ধরে চমক দেখাচ্ছেন। অথচ আজ পর্যন্ত একজন ব্যাংক লুটেরার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। বেসিক ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, ফারমার্স ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কোমায় চলে গেছে। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর ক্লোজআপ হাসি এতটুকুও ম্লান হয়নি। আওয়ামী লীগের লোকজনই বলছে, আগামী নির্বাচনে ব্যাংকিং খাত বড় মাথাব্যাথার কারণ হবে।

খাদ্য নিয়ে কথা বলতেও জনগণের অরুচি এসে গেছে। এজন্য এনিয়ে মানুষ এখন কথা বলে না, ক্ষোভে ফুঁসতে থাকে। গম কেলেংকারী থেকে চাল- সব কেলেংকারী মাথায় নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী দিব্যি বিএনপির দুর্নীতি নিয়ে নসিহত করেন।

এ তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে। কিন্তু সরকারের সব অর্জনকে ধ্বংস করতে এই চার মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতাই কি যথেষ্ট নয়? প্রধানমন্ত্রী হয়তো ভাবছেন, নির্বাচনের আগে তাদের সরিয়ে দিলে, দলের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি কেন ব্যর্থদের দায় নেবেন? অসৎ, দুর্নীতিবাজদের কেন আপনি প্রশ্রয় দেবেন? ব্যর্থদের কেন জবাবদিহিতা থাকবে না?


এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। ebizctg.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে ebizctg.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।