অবস্থান ধর্মঘটের বেহাল খবর শুনে ‘ধুত’ বলে রেডিও বন্ধ করে দেন খালেদা!

0

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা পাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারান্তরীণ থাকায় অবস্থায় সার্বিক পরিস্থিতি শুনে দলের নেতাদের উপর বেজায় চটেছেন। তার মুক্তির জন্য কোনো আন্দোলনই হচ্ছে না বলে তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন। কারারক্ষী, কারাগারের ডেপুটি জেলার এবং আরও দুজন কারা কর্মকর্তার সঙ্গে মঙ্গলবার বেগম জিয়া কথা বলেছেন।

কারাগার সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে, সকালেই বেগম জিয়া কারা রক্ষীদের কাছে জানতে চান, বিএনপির কর্মসূচির খবর কী। ওই নারী কারারক্ষী খোঁজ খবর নিয়ে জানান। বেগম জিয়াও একটি এফএম রেডিওতে সকাল ৮ টা ৪৫ মিনিটের খবর শোনেন। প্রেসক্লাবের সামনে মাত্র একঘণ্টার কর্মসূচি শুনে একটু রেগেই যান বিএনপি চেয়ারপারসন। তার সামনে উপস্থিত একজন কারা কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন ‘এটা স্রেফ ফাজলামি করছে। এটা কোনো আন্দোলন হলো?’ ওই কারা কর্মকর্তা অবশ্য কোনো উত্তর দেননি।

দুপুরে আবার বেগম জিয়া বেসকারি এফএম রেডিওতে আন্দোলনের খবর শোনেন। অবস্থান ধর্মঘটের খবর শোনার পর ‘ধুত’ বলে রেডিও বন্ধ করে দেন। বিকেলে ডেপুটি জেলারের কাছে জানতে চান, বিএনপির আর কেউ গ্রেপ্তার হয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করেন। ডেপুটি জেলার দুদুর কথা বললে তিনি ভ্রু কুঁচকে শুধু প্রতিক্রিয়া জানান। কারাগারে কেউ দেখা করতে এসেছিল কিনা জানতে চাইলে ওই কারা কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়ার নাম বলেন। ওই কারা কর্মকর্তা জামিনের ব্যাপারে অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়ার বক্তব্য বেগম জিয়াকে জানান।

মঙ্গলবারও কারাগারের রান্না খাবার খাননি বেগম জিয়া। সকালে খেয়েছেন কনফ্লেক্স। দুপুরে কিছু ফলমুল ইত্যাদি। সকাল থেকে অন্তত ৮/১০ বার কারাগারের লোকজনকে ডেকে নানা সমস্যার কথা বলেছেন। মাঝে মধ্যেই মেজাজের খেই হারিয়ে চিৎকার চেঁচামেচি করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেগম জিয়ার কারা-মান সম্পর্কে ডিআইজি প্রিজন বলেছে, ‘ওনাকে ডিভিশনের চেয়েও বেশি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।’ কারাগারে বেগম জিয়াকে যে কক্ষ দেওয়া হয়েছে, তা আধুনিক সাজসজ্জায় সজ্জিত। কিন্তু বেগম জিয়া কারা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছেন, তার শোবার খাটটি যথেষ্ট নরম নয়। বেগম জিয়া সার্বক্ষণিক গরম পানি চান। কিন্ত তেমন ব্যবস্থা কারাগারে নেই।

কারাগারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তার জন্য নিয়মিত পানি গরম করে সরবরাহ করা হচ্ছে। বেগম জিয়া কারা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছেন, তার কক্ষের কার্পেট যথাযথ নয়। এটাতে প্রচুর ধূলো। কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সমাধানের জন্য শনিবার দুবার কার্পেট পরিষ্কার করেছেন। বেগম জিয়া কারাগারের খাবারের মান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, বেগম জিয়ার জন্য আলাদাভাবে রান্নার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বেগম জিয়া তার কক্ষে রক্ষিত টেলিভিশনে হিন্দি চ্যানেল বিশেষ করে স্টার প্লাস এবং কালারস এ দুটি চ্যানেল দেখতে চান। কিন্ত কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, কারাগারে ডিশ সুবিধা নিয়ন্ত্রিত। এখানে শুধু বাংলাদেশি চ্যানেল দেখানো যায়। আইনজীবীরা আসার আগে বেগম জিয়া কারাগারের বিভিন্ন অসুবিধা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরে আইনজীবীদেরও তিনি একই অভিযোগ করেছেন।

কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, কারাগারে ব্যক্তিগত চিকিৎসক দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। কারাগারের চিকিৎসকরা তাকে নিয়মিত পরীক্ষা করছেন। এখন পর্যন্ত বেগম জিয়ার বড় কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা যায়নি।


এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। ebizctg.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে ebizctg.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।