‘সরকার বিএনপির নেতাদেরও কিনে নিয়েছে’

0

খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হবার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই আন্দোলনের ব্যাপারে দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের মাঝে মতবিরোধ দেখা গেছে। বিএনপির সিনিয়র নেতারা, এখন চূড়ান্ত আন্দোলনের বদলে আইনি লড়াইকে গুরুত্ব দিতে চাইছেন। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত তরুণ এবং তৃণমূলের নেতারা চাইছেন এখনই চূড়ান্ত আন্দোলন। বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বেগম খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, বেগম জিয়া কারান্তরীণ হলেই বিএনপি চূড়ান্ত আন্দোলনে যাবে। কিন্তু ৮ ফেব্রুয়ারি খালৈদা জিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিএনপি শুধু বিক্ষোভ ছাড়া আর কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। ওই কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেছিলেন, ‘প্রয়োজনে আমরা স্বেচ্ছা কারাবরণ করব।‘ কিন্তু দেখা যাচ্ছে শীর্ষ নেতারা নিজেদের বাচাতেই ব্যস্ত। আন্দোলনকে বেগবান করতে এবং নাশকতা করে জনমনে ত্রাস সৃষ্টির উদ্দেশ্যে লন্ডন থেকে তারেক জিয়ার পাঠানো ৫০ কোটি টাকাও ভাগ বাটোয়ারা করে নেতা কর্মীরা ইতিমধ্যে হজম করে ফেলেছে বলে দলের একাধিক সূত্র জানায়।

বিএনপির সেই বিশ্বস্ত সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের মতো অঙ্গ সংগঠনগুলো বড় আন্দোলনের কর্মসূচির পাশাপাশি দৃঢ় নেতৃত্ব চায়। একই মনোভাব তৃণমূলেরও। একটি দলীয় সংগঠনের একজন নেতা বলেছেন, হরতাল অবরোধ ছাড়াও অনেক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। যেমন- অনশন, মানববন্ধন, কারাগারের সামনে গণ অবস্থান ইত্যাদি। কিন্ত সিনিয়র নেতারা এসব আন্দোলনে আগ্রহী নন। বিএনপির চেয়ারপারসন গ্রেপ্তারের ৪৮ ঘণ্টা পর বিএনপিতে যে ৩ দিনের কর্মসূচি দিয়েছে তাতে খুশি না তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তারা এটাকে দায়সারা কর্মসূচি বলছে। বিএনপির তরুণ নেতৃত্ব মনে করেন দলের সিনিয়র নেতাদের সরকার কিনে ফেলেছে। ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন তার দুর্নীতির মামলা থেকে বাঁচতে সরকারের সঙ্গে দেনদরবার করছেন বলে অভিযোগ আছে। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ চান তার বাড়ি ফেরত। এছাড়াও একজন সিনিয়র নেতার ব্যাংক ঋণ মওকুফের টোপ ঝুলছে বলে জানা যায়।

তরুণরা মনে করছেন, এসব কারণেই বিএনপি নেতাদের হাত পা বাঁধা। এরা সরকারের সাজানো নির্বাচনের দিকে বিএনপিকে নিতে চায়। স্থায়ী কমিটির সিংহভাগ সদস্যই এখনই বড় আন্দোলনের হঠাকারিতা চাননা। বরং তারা চান আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বেগম জিয়াকে কারাগার থেকে বের করে আনা। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বাধীন তরুণরা মনে করেন, বেগম জিয়ার গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে আন্দোলন গড়ে তোলার সুযোগে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের অনীহার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। মাঝখান থেকে হাজার হাজার নেতা কর্মী গ্রেপ্তার হলো। এজন্য তরুণরা এই আন্দোলনের বিকল্প পথ খুঁজছে।

একটি সূত্র বলছে, তারেক জিয়া অঙ্গ সংগঠনগুলোকে অবিলম্বে কর্মমুখী ঘোষণার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিমধ্যে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা পাঁচ দিনের এক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর ফলে আন্দোলন প্রশ্নে বিএনপির মতদ্বৈততা প্রকাশ হয়েছে। বেগম জিয়ার কারাজীবন দীর্ঘায়িত হলে, এই মতদ্বৈততা বিএনপিকে ভাঙনের পথে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। ebizctg.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে ebizctg.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।