অস্থিরতায় ভুগছেন খালেদা, স্টারপ্লাস এবং কালারস চ্যানেল দেখতে পারছেন না!

0

এটা বুঝে গেছেন তিনি, সহসাই তার মুক্তি মিলছে না। তাই কৌশল খাটয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে চাচ্ছেন দুর্নীতির মামলায় কারাবারণকারী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দলীয় ৫ আইনজীবীর সাথে সাক্ষাতে বিএনপির নেত্রী এই মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। যে আইনজীবীরা তার সঙ্গে দেখা করেছেন তারা এর সত্যতা স্বীকার করেছেন। আইনজীবীরা বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ব্যক্তিগত চিকিৎসককে দিয়ে বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার আবেদন করেছেন।

শনিবার বিকেলে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ সহ ৫ জন আইনজীবী বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জেলখানার সূত্রগুলো বলছে, শুক্রবার কিছুটা শান্ত থাকলেও শনিবার অনেকটাই অস্থির হয়ে উঠেছেন বেগম জিয়া। সকাল থেকে অন্তত ৮ বার কারাগারের লোকজনকে ডেকে নানা সমস্যার কথা বলেছেন। মাঝে মধ্যেই মেজাজের খেই হারিয়ে চিৎকার চেঁচামেচি করেছেন। বেগম জিয়া তার আইনজীবীদের কাছেও বলেছেন তাকে অত্যন্ত নিম্নমানের পরিবেশে রাখা হয়েছে। ডিভিশন মর্যাদা দেওয়া হয় নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেগম জিয়ার কারা-মান সম্পর্কে ডিআইজি প্রিজন বলেছে, ‘ওনাকে ডিভিশনের চেয়েও বেশি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।’ কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে বেগম জিয়াকে যে কক্ষ দেওয়া হয়েছে, তা আধুনিক সাজসজ্জায় সজ্জিত। কিন্তু বেগম জিয়া কারা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছেন, তার শোবার খাটটি যথেষ্ট নরম নয়। বেগম জিয়া সার্বক্ষণিক গরম পানি চান। কিন্ত তেমন ব্যবস্থা কারাগারে নেই।

কারাগারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তার জন্য নিয়মিত পানি গরম করে সরবরাহ করা হচ্ছে। বেগম জিয়া কারা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছেন, তার কক্ষের কার্পেট যথাযথ নয়। এটাতে প্রচুর ধূলো। কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সমাধানের জন্য শনিবার দুবার কার্পেট পরিষ্কার করেছেন। বেগম জিয়া কারাগারের খাবারের মান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, বেগম জিয়ার জন্য আলাদাভাবে রান্নার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বেগম জিয়া তার কক্ষে রক্ষিত টেলিভিশনে হিন্দি চ্যানেল বিশেষ করে স্টার প্লাস এবং কালারস এ দুটি চ্যানেল দেখতে চান। কিন্ত কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, কারাগারে ডিশ সুবিধা নিয়ন্ত্রিত। এখানে শুধু বাংলাদেশি চ্যানেল দেখানো যায়। আইনজীবীরা আসার আগে বেগম জিয়া কারাগারের বিভিন্ন অসুবিধা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরে আইনজীবীদেরও তিনি একই অভিযোগ করেছেন।

কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, কারাগারে ব্যক্তিগত চিকিৎসক দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। কারাগারের চিকিৎসকরা তাকে নিয়মিত পরীক্ষা করছেন। এখন পর্যন্ত বেগম জিয়ার বড় কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা যায়নি।


এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। ebizctg.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে ebizctg.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।