‘ম্যাডামের জেল হয়েছে, তারেকের ফাঁসি হবে’

0

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই সামনে আসছে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা এবং ২৪ নেতা কর্মী হত্যা মামলার বিচার। ওই মামলার প্রধান আসামি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক জিয়া। মামলার যুক্তিতর্কও প্রায় শেষ পর্যায়ে। রাষ্ট্রপক্ষ ইতিমধ্যে তার যুক্তিতর্ক শেষ করেছে। রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলায় তারেকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে।

বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলছেন, ‘আইনজীবীরা এই মামলাকে সিরিয়াসলি নেয়নি। মামলার প্রস্তুতিও ভালো ছিল না।’ কয়েকজন সিনিয়র নেতা সোমবার রাতে এই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, বিএনপির একাধিক নেতা আইনজীবীদের বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তারা মনে করছেন, ‘এই মামলাটি প্রফেশনালি হ্যান্ডেল করা হয়নি।’

আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য বলেছেন, ‘ম্যাডামের জেল হয়েছে, তারেকের ফাঁসি হবে।’ বিএপির একাধিক শীর্ষ নেতা মনে করছেন, আইনি লড়াইয়ে বিএনপি যথেষ্ঠ মনোযোগী ছিল না। মামলায় আরও বেশি নজর দেওয়া উচিত ছিল। তারা মনে করছেন, এই স্পর্শকাতর মামলায় তারেকের সর্বোচ্চ শাস্তি হলে তার রাজনীতি করা কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে কঠিন হয়ে যাবে বিএনপির রাজনীতিও।

প্রসঙ্গত, আগামী তিন-চার মাসের মধ্যেই যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বন্দী বিনিময় চুক্তি সাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চুক্তি হলে প্রথম যে ব্যাক্তিটিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে তিনি হলেন তারেক জিয়া। মানিলণ্ডারিংয়ে ৭ বছরের কারাদণ্ডের পর জিয়া অরফানেজ মামলায় তার ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। এর ফলে ইন্টারপোলের ‘ওয়ান্টেড’ আসামিদের তালিকায় তারেকের নাম তালিকার ওপরের দিকে উঠে এসেছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় দোষী প্রমাণিত হলে তাকে ইন্টারপোল ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ হিসেবে চিহ্নিত করবে। তখন যুক্তরাজ্য তাকে ইন্টারপোলের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হবে। অর্থাৎ আজ না হয় কাল তাকে দেশে ফিরতেই হবে।

এখন তারেকের অন্যদেশে যাওয়ার সুযোগও কম। কারণ তারেক জিয়া তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট নবায়ন করেননি। যুক্তরাজ্য সরকার তাকে রিফিউজি হিসেবে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে কিন্তু কোনো পাসপোর্ট দেয়নি। তারেকের দেশে ফেরাও এক বন্ধুর পথ। মানি লন্ডারিং মামলায় তারেককে দণ্ড দিয়েছে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার বিধান থাকলেও তারেক তা করেননি। বাকি দুটি মামলায় যদি তিনি দেশে না ফেরেন তাহলে আপিলের সুযোগ হারাবেন। এরকম এক দৃশ্যপটে তারেক জিয়ার রাজনীতির ভবিষ্যত কী? তার পরিণতিই বা কী? এ প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

বেগম জিয়া জেলে যাবার পর তারেককে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করাকে পছন্দ করেননি দাতা ও বন্ধু রাষ্ট্ররাও। দলের তরুণ অংশে তারেক অসম্ভব জনপ্রিয় হলেও দেশের সিংহভাগ মানুষ তাকে রাজনীতিবিদ ভাবতে রাজি নন। বরং তাকে একজন দুর্বৃত্ত এবং দুর্নীতিবাজ মনে করে সাধারণ মানুষ। বেগম জিয়ার রাজনীতি যখন অস্তমিত সূর্যের মতো, তখন তারেকের রাজনীতির ভবিষ্যৎ কোনো আশার আলো দেখাতে পারছে না। বরং দেশে বিদেশে নানা কেলেঙ্কারিতে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকা তারেক জিয়ার রাজনীতির ইতি দেখছেন অনেকেই। ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ হওয়ার মধ্য দিয়েই কি তারেক জিয়ার রাজনীতির যবনিকা পর্বের সূচনা হলো?


এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। ebizctg.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে ebizctg.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।