মনোবল হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন খালেদা জিয়া!

0

আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরেছে একাকী কারাগারে থেকে। মনোবল হারিয়ে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। তার কারাজীবন দীর্ঘ হচ্ছে এটা বুঝতে পারেন সোমবার। ওই দিনই কারা কর্তৃপক্ষ একে একে তাকে ৪ মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। বেগম জিয়া বুঝতে পারেন, সহসাই তার মুক্তি পাবার কোনো সম্ভাবনা নেই। এসময়ই প্রথম কেঁদে ফেলেন তিনি।

কারা কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করেন, তোমরা আমাকে কতদিন রাখবে? উত্তরে এক কারা কর্মকর্তা তাকে বলেন ‘এটা তো আমরা জানি না। এটা জানে আদালত।’ এরপর বেগম জিয়া নিজেই বিড়বিড় করে বলেন, ‘ওরা আমাকে মিথ্যা বলেছে। ওরা বলেছিল, দুই-তিনদিনের বেশি আমাকে জেলে থাকতে হবে না। এভাবে বেশি দিন থাকলে আমি বাঁচব না।’ দুই নারী কারারক্ষী তাকে সান্তনা দেন।

সোমবার সারাদিন বেগম জিয়া নিকট আত্মীয় এবং আইনজীবীদের জন্য অপেক্ষা করেছেন। কিন্তু সোমবার কেউ তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেনি। এজন্যও মন খারাপ করেছিলেন তিনি। পঞ্চম দিনের মতো জেলে খাবার গ্রহণ না করে ষ্ট্রবেরী, নাশপাতি, আঙ্গুর এবং অন্যান্য ফলমুল এবং জ্যুস খেয়েই কাটান বিএনপি চেয়ারপারসন। এছাড়াও তিনি খেয়েছেন কেক, বিস্কুট, কোয়েকার এর মতো শুকনো খাবার।

দলের নেতা কর্মীদের খালেদা জিয়ার কারাবাস নিয়ে চিন্তার শেষ নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কান্নাযুক্ত সেলফি, মসজিদে বসে জুমার নামাজের খুতবা শোনা বাদ দিয়ে দলীয় নেত্রীর জন্য কেঁদে বুক ভাসানো ভিডিও লাইভ এসব দেখে তাদের দুশ্চিন্তা আঁচ করা যায় সহজেই। অন্যদিকে খালেদা জিয়াও কারাগারে ভালো নেই। গতরাতে তিনি সামান্য তেলাপোকা নিয়ে বাধিয়েছেন এক তুলকালাম!

রাত ১২টার পর বেগম জিয়ার আকস্মিক চিৎকারে ছুটে আসেন দু’জন নারী কারারক্ষী। বেগম জিয়া একটি মাঝারি আকৃতির উড়ন্ত তেলাপোকা দেখে ভয়ে সোফার ওপর উঠে চিৎকার করছিলেন।

পরে ওই দুই নারী কারারক্ষী তেলাপোকাটি মেরে ফেলে দিলেও বেগম জিয়াকে খুশি করা যায়নি। তিনি কারা কর্মকর্তা কাউকে ডাকতে বলেন কারারক্ষীদের। পরে তার তোড়জোরে হন্তদন্ত হয়ে রাত ১টা নাগাদ ডেপুটি জেলার ছুটে আসেন কারাগারে। তখন তাকে দেখে বেগম জিয়া ক্রোধে আরও ফেটে পড়েন। অভিযোগের ফিরিস্তি তুলে ধরেন তার কাছে। নিম্নমানের খাবার, বস্তির চেয়েও খারাপ পরিবেশে রাখা হয়েছে বলে তিনি রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে চিৎকার করতে থাকেন। ভোর রাত পর্যন্ত চলে তার এই ‘তেলাপোকা নিয়ে তুলকালাম‘ নাটক।

এর আগে খালেদা জিয়াকে কয়েদিদের পোশাক পরাতে চেয়েছিলেন কারা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কারা পোশাক কিছুতেই পরবেন না বিএনপির চেয়ারপারসন। আজ সকালে এ নিয়েও হয়ে গেল তুমুল বিতণ্ডা। কারা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দণ্ডিত কয়েদিদের জন্য এই পোশাক নির্ধারিত। কিন্তু প্রতিদিনই তা বেগম জিয়া ফেলে দিচ্ছেন। কারা পোশাক পরিধান করতে বললে বেগম জিয়া খুবই উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘আমি মরে গেলেও এই কয়েদিদের পোশাক পরব না। এগুলো তোমরা পর। যারা আমাকে জেল দিয়েছে তাদের পরাও।’

উত্তেজিত হয়ে তিনি সবাইকে জেলের ভাত খাওয়ানোর হুমকি দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারাগারের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন ‘উনি সম্মানিত ব্যক্তি। ওনাকে কারাগারের নিয়মনীতি মানতে হবে। আমরা চাই না তাকে জোরপূর্বক কোনো কিছুতে বাধ্য করতে। তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আইন ও বিধি সম্পর্কে তিনি যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন বলেই আমাদের ধারনা।’


এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। ebizctg.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে ebizctg.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।