‘টাকায় সব হয় না, একদিন টাকাই আপনাকে শেষ করবে’

0

বিএনপি কার্যালয় থেকে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে জানানো হলো লন্ডন থেকে তারেক জিয়া তাকে ফোন করবেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য একটু খুশি হয়েই ফোনের অপেক্ষা করলেন। কিছুক্ষন পর যথারীতি ফোন এলো। ব্যারিস্টার মওদুদ খুবই আনন্দচিত্তে ফোন রিসিভও করলেন। অপরপ্রান্ত থেকে বলা হলো ‘আপনি শুক্রবার সন্ধ্যায় কার সঙ্গে দেখা করেছেন?’ ব্যরিস্টার মওদুদ একটু থতমত খেলেন, জিজ্ঞেস করলেন কেন বলুন তো? অপর প্রান্ত থেকে বলা হলো, বিকেলে ব্যারিস্টার মওদুদ সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, তার খবর পৌঁছে গেছে লন্ডনে। এর মাধ্যমে বুঝিয়ে দেয়া হলো, দলের সিনিয়র নেতাদের চোখে চোখে রাখছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

ব্যরিস্টার মওদুদ প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করলেন। বললেন ‘ওটা ছিল স্রেফ সৌজন্য সাক্ষাৎ। তিনি আমার আত্মীয়।’ এরপর তারেক জানতে চাইলেন তার মায়ের জামিনের কী হলো? উত্তরে মওদুদ বললেন, ‘সময় লাগবে।’ তাহলে আপনি পাবলিককে বললেন কেন যে ‘রোববার- সোমবার জামিন হবে।’ ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘সার্টিফায়েড কপি না পেলে কি করব।’ অপর প্রান্ত থেকে জানতে চাওয়া হলো ‘কত টাকা দিলে সার্টিফায়েড কপি দ্রুত পাওয়া যাবে।’ এবার বিনয়ী মওদুদ একটু বিরক্তই হয়েই বললেন, ‘টাকা দিয়ে সব কিছু হয় না। আপনি যতদিন ভাববেন টাকা দিয়েই সব কিছু হয়, ততদিন ভুলের মাঝে ডুবে থাকবেন। রাজনীতি করতে হলে এই চিন্তা মাথা থেকে নামাতে হবে। এই টাকাই একদিন আপনাকে শেষ করবে।’ বলেই মওদুদ ফোন কেটে দিলেন।

বিএনপি দলীয় কার্যালয়ের এক বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে ঘটনাটি জানা যায়।

প্রসঙ্গত, আগামী তিন-চার মাসের মধ্যেই যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বন্দী বিনিময় চুক্তি সাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চুক্তি হলে প্রথম যে ব্যাক্তিটিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে তিনি হলেন তারেক জিয়া। মানিলণ্ডারিংয়ে ৭ বছরের কারাদণ্ডের পর জিয়া অরফানেজ মামলায় তার ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। এর ফলে ইন্টারপোলের ‘ওয়ান্টেড’ আসামিদের তালিকায় তারেকের নাম তালিকার ওপরের দিকে উঠে এসেছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় দোষী প্রমাণিত হলে তাকে ইন্টারপোল ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ হিসেবে চিহ্নিত করবে। তখন যুক্তরাজ্য তাকে ইন্টারপোলের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হবে। অর্থাৎ আজ না হয় কাল তাকে দেশে ফিরতেই হবে।

এখন তারেকের অন্যদেশে যাওয়ার সুযোগও কম। কারণ তারেক জিয়া তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট নবায়ন করেননি। যুক্তরাজ্য সরকার তাকে রিফিউজি হিসেবে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে কিন্তু কোনো পাসপোর্ট দেয়নি। তারেকের দেশে ফেরাও এক বন্ধুর পথ। মানি লন্ডারিং মামলায় তারেককে দণ্ড দিয়েছে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার বিধান থাকলেও তারেক তা করেননি। বাকি দুটি মামলায় যদি তিনি দেশে না ফেরেন তাহলে আপিলের সুযোগ হারাবেন। এরকম এক দৃশ্যপটে তারেক জিয়ার রাজনীতির ভবিষ্যত কী? তার পরিণতিই বা কী? এ প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

বেগম জিয়া জেলে যাবার পর তারেককে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করাকে পছন্দ করেননি দাতা ও বন্ধু রাষ্ট্ররাও। দলের তরুণ অংশে তারেক অসম্ভব জনপ্রিয় হলেও দেশের সিংহভাগ মানুষ তাকে রাজনীতিবিদ ভাবতে রাজি নন। বরং তাকে একজন দুর্বৃত্ত এবং দুর্নীতিবাজ মনে করে সাধারণ মানুষ। বেগম জিয়ার রাজনীতি যখন অস্তমিত সূর্যের মতো, তখন তারেকের রাজনীতির ভবিষ্যৎ কোনো আশার আলো দেখাতে পারছে না। বরং দেশে বিদেশে নানা কেলেঙ্কারিতে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকা তারেক জিয়ার রাজনীতির ইতি দেখছেন অনেকেই। ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ হওয়ার মধ্য দিয়েই কি তারেক জিয়ার রাজনীতির যবনিকা পর্বের সূচনা হলো?


এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। ebizctg.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে ebizctg.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।