প্রশ্নফাঁসের নেপথ্য ম্যাসেজটা কি শিক্ষাবিদরা বুঝতে পারছেন?

0

।। নাগরিক বায়স ।।

মোবাইল নাম্বার বন্ধ করে দেয়া, ফাঁস করা প্রশ্ন বিতরণকারীদের গ্রেফতার করা, ইন্টারনেট বন্ধ করা, পুলিশ-গোয়েন্দাদের ঘুম হারাম করে দৌড়ঝাঁপ করা… কোন কিছুতেই বন্ধ করা যাচ্ছে না প্রশ্নফাঁস। টাকাও নিচ্ছে না, সরকারের সাথে লুকোচুরি খেলছে চক্রটা। পরীক্ষার ঘন্টাখানেক আগে পাওয়া প্রশ্নে আসলে কতোটা উপকৃত হচ্ছে পরীক্ষার্থীরা, সেটা তর্কের বিষয় হতে পারে। তবে শিক্ষামন্ত্রী এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্তা ব্যক্তিদের যে নাভিশ্বাস উঠেছে, এতে কোন সন্দেহ নাই।

প্রশ্নটা হলো- ফাঁসকারীদের লাভ কী?

শুধু সরকারকে বেকায়দা ফেলা? ঘটনা কি আসলেই এতটা সরল? সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে আরও অনেক কায়দা কানুন আছে। কিন্তু শুধু শিক্ষাখাত কেন? আসলে এটার পেছনে আছে দীর্ঘমেয়াদি একটা সুগভীর চক্রান্ত। ধীরে ধীরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার মাধ্যমে একপাল গবেট শ্রেণি প্রস্তত করা, যারা আগামীতে দেশের হাল ধরবে। স্বাধীনতা দিবস আর বিজয় দিবসের পার্থক্য জানে না, এমন একটা জিপিএ-৫ গোষ্ঠী যখন দেশ চালাবে, স্বভাবতই দেশের হাল কী হবে, সেটা অনুমান করতে গেলেই হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার কথা।

পিএসসি, জেএসসি, জিপিএ-৫ এর প্রাচুর্যতা, সৃজনশীলতা…হাবিজাবি দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কম পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়নি। লাভের কিছুই হয়নি। বছর বছর পাশ করে বেরোনোদের মাঝে প্রকৃত শিক্ষিত এবং দীক্ষিত ছাত্র-ছাত্রী শতকরা কয়জন, সেটা আঙুলে গুণে বলে দেয়া কঠিন কিছু না। দেশ ভরে গেছে সাধারণ জ্ঞানহীন জিপিএ-৫ দিয়ে। এই প্রাচুর্যতা দেখে আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তোলাটা বন্ধ করেন প্লিজ। এবার থামেন, থামান আপনাদের এত এত গবেষণা। দেশের শিক্ষাখাত ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আগে একবার অন্তত ভাবুন, আপনারা আসলে কী চান?

স্বাধীনতার এত বছর পর্যন্ত দেশের গুণী শিক্ষাবিদদের দাবি- একমুখী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন মাধ্যমের শিক্ষা ব্যবস্থার একটা জগাখিচুড়ির মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে আমাদের সন্তানেরা। প্রকৃত জ্ঞানচর্চার অভাব, সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পাঠ নেই, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লড়াই করার মতো শক্ত ভিত্তির অভাব, কর্মমুখী শিক্ষার অভাব, গবেষণার সুযোগের অভাব… এই তালিকা অনেক দীর্ঘ। কেন আপনারা শিক্ষাবিদেরা একমত হতে পারছেন না? আপনারা ক্যান্সারের উৎস অনুসন্ধান না করে শুধু জ্বর-কাশির ওষুধ ব্যবহার করে কষ্ট কমানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু এই সাময়িক উপশম কি রোগীর জীবন বাঁচাতে সক্ষম?

একবার ভাবুন তো?

আবার ফিরে আসি শুরুর কথায়। প্রশ্নফাঁসকারীদের লাভ কী? এটা ভেবে সময় নষ্ট না করে তাদের অপ-পরিকল্পনাকে থামানোর পথ খুঁজুন। বদলে দিন শিক্ষা ব্যবস্থাকে। পরীক্ষার বোঝা কমান, বিশ্বের উন্নত দেশগুলো কীভাবে সফল শিক্ষা নীতি প্রণয়ন করছে, সেসব থেকে উদাহরণ নিন। শিক্ষার্থীদের ওপর অত্যাচারের মাত্রা কমিয়ে দিন। পরীক্ষা আর পাশ করার অসুস্থ প্রতিযোগীতার পাশাপাশি অভিভাবকদের উন্মত্ততা কমানোর কার্যকর পদক্ষেপ নিন। প্লিজ কিছু একটা করুন। দেশটাকে পঙ্গুত্বের হাত থেকে বাঁচান।

* নাগরিক বায়স এর অন্য লেখাগুলো পড়তে ক্লিক করুন।

পরিচিতি: ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট


এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। ebizctg.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে ebizctg.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।