যৌনদাসী ইসলামে জায়েজ: ব্রিটিশ ইমাম আলী হামুদা (ভিডিও)

0

সারা বিশ্বের মানুষ যেখানে আইএস ঘাঁটিতে বিভিন্ন দেশ থেকে নারীদের আটকে সেখানে যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করা নিয়ে তিরস্কার করছেন, সেখানে অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ভুল বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে ব্রিটেনের এক ইমাম। যৌনদাসী রাখা ইসলামসম্মত বলে তাদের শেখাচ্ছেন ইসলাম প্রচারক ইমাম আলী হামুদা।

ব্রিটেনের কার্ডিফ মসজিদে ছোটদের সামনে ইসলাম ধর্ম ব্যাখ্যা করার সময় ইমাম বলেন, ‘যুদ্ধে নারীদের বন্দি করা হলে, বিজিতরা সেই নারীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেন। কেননা ইসলাম মতে তারা শাস্তি পাবেন। পরাজিত ওই নারীরা থাকবে যৌনদাসী হয়ে।’

আলী হামুদার বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়ে যায়। এ নিয়ে সারা বিশ্বে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ইমাম আলী হামুদা জন্মসূত্রে একজন ফিলিস্তিনি। তবে তিনি বড় হয়েছেন ব্রিটেনে। সম্প্রতি তার ছাত্রদের মধ্যে নাসীর মুথানা, রিয়াদ খান এবং মুথানার ভাই অসীল আইএসে যোগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পরই এই ভিডিওটি সামনে আসে।

ভিডিওটি সংবাদের শেষে দেওয়া হলো।

যৌনদাসী জায়েজ হওয়ার পেছনে ইসলামের ব্যাখ্যা:

সুরা নিসার ‘ডান হাতের অধীনে আসা’ বলতে দাসীদের বুঝানো হয়েছে এটা না জানলে আপনি কুরআন-হাদিসের কিছুই জানেন না। এই দাসী দু’ভাগে লাভ করা যাবে-

এক. যুদ্ধে শত্রু পক্ষের নারীদের গণিমতের মাল হিসেবে লাভ করে।

দুই. বাজার বা কোন মাধ্যম থেকে দাসী ক্রয় করে নেয়া।

আজকের যুগে সৌদি আরব নারীদের গণিমতের মাল করতে পারবে না জেনেভা কনভেশনের গ্যাঁড়াকলে পড়ার ভয়ে। বাকী থাকে দাসী কেনা, সেটা তারা ‘গৃহকর্মী’ আমদানী করার ছলে আসলে একটা দালাল গ্রুপের মাধ্যমে দরিদ্র দেশগুলো থেকে কিনে নেয়।

দাসীদের সঙ্গে বিয়ে ছাড়াই সেক্স করা যাবে- এটা কোন অন্যায় কাজ নয়। স্বাধীন সধবা নারীদের সঙ্গে বিবাহবর্হিভূত সেক্স করা ইসলাম মতে ব্যাভিচার যার শাস্তি রজম (পাথর ছুঁড়ে মারা)। নারী পুরুষ স্বেচ্ছায় যৌন সম্পর্কে জাড়ালেও ইসলামের চোখে সেটা মহা অন্যায়। কিন্তু দাসীদের বিয়ে ছাড়াই সেক্স করা বিরাট পূণ্যে কাজ!

দাসীদের যে বিয়ে ছাড়াই সেক্স করা যায় এটা ইসলামিস্টরা আজকাল গোপন করতে চায়। অসংখ্য হাদিস আছে তাদের মিথ্যাচারের জবাব দিতে। এরকমই একটি শক্তিশালী পাটকেল হতে পারে এই হাদিসটি-

মুয়াত্তা, বই নং-৩০, হাদিস নং-৩০.২.১৩ঃ, আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার বলেন, “…এক লোক উমর ইবনে খাত্তাবের কাছে এসে বলল- ‘আমার একটি ক্রীতদাসী আছে, তার সাথে আমি নিয়মিত যৌনসঙ্গম করি। আমার স্ত্রী তার কাছে গিয়ে তাকে বুকের দুধ খাইয়েছে। এরপর যখন আমি মেয়েটির কাছে গেলাম, আমার স্ত্রী আমাকে বের হয়ে যেতে বলল, কারণ সে নাকি তাকে বুকের দুধ খাইয়েছে’।

উমর লোকটিকে স্ত্রীকে প্রহার করার আদেশ দিলেন এবং (আগের মতোই) সে তার দাসী মেয়েটির কাছে যেতে পারবে বললেন। কারণ বুকের দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে যে আত্মীয়তা প্রতিষ্ঠিত হয় তা কেবল শিশুদের বেলায়।”

একজন নারী ঈর্ষাবশত ঘরের দাসীটির কাছে তার স্বামীর যাতায়াত ঠেকাতে তার বুকের দুধ খাইয়েছিল। যদি দাসীকে বিয়ে করে সেক্স করতে হতো তাহলে এমনটা করার প্রয়োজনই ছিল না। যেমন কারুর বৈধ একাধিক স্ত্রী থাকলেও এক রাতে সবার সঙ্গে গোসল ছাড়া সঙ্গম করতে পারবেন না। কিন্তু দাসীদের সঙ্গে তেমনটার প্রয়োজন নেই। (দেখুন: মুয়াত্তা: ২.২৩.৯০)।

হযরত উমারের আগে তো আরো ভয়াবহ অবস্থা ছিল। তখন একজন ঈমানদার মুসলমান দাসী এবং তার গর্ভজাত কন্যাকে একত্রে সঙ্গম করতে পারতেন! অতঃপর উমার তার নিজ ক্ষমতা বলে সেটা বাতিল করে দেন। হাদিসটি দেখুন- মুয়াত্তা, বই নং-২৮, হাদিস নং-২৮.১৪.৩৩,

….আবদুল্লাহ ইবনে উতাবা ইবনে মাসুদ তার পিতার বরাত দিয়ে বলেন যে ওমরকে একজন ব্যক্তির কথা জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যার দক্ষিণ হস্তের অধিকারে ছিল একজন দাসী ও তার গর্ভজাত কন্যা, এই অবস্খায় লোকটি তাদের একজনের সাথে যৌনসঙ্গম করার পর অপর জনের সাথে করতে পারে কিনা?

উমর বলেছিলেন – “উভয়ের সাথে একই সাথে (সহবাস) করা আমি অপছন্দ করি”। অতঃপর তিনি উহা নিষিদ্ধ করেন।

এবার আসুন পিতা পুত্র দাদা নাতির মধ্যে দাসী ভাগাভাগি করে ভোগ করার ইসলামী অনুমোদন কতটা আছে জানা যাক। হেদাইয়া আইন শাস্ত্র মুসলিম জীবনে শরীয়তী বিধানের অন্যতম সূত্র। পৃথিবী সমস্ত ইসলামী ফতোয়াতে এই গ্রন্থ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করে।

সেখানে বলা আছে পিতা তার পুত্রের বা পৌত্রের ক্রীতদাসীটির সঙ্গে সেক্স করতে পারবে এবং সেটা কোন শাস্তিযোগ্য কাজ নয়, এটি বৈধ। (দ্য হেদাইয়া কমেন্টারি অন দ্য ইসলামিক ল’স- (পুণর্মুদ্রন- ১৯৯৪); অনুবাদ- চার্লস হ্যামিল্টন।

ইমাম আলী হামুদার ভিডিওটি দেখুন:


এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। ebizctg.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে ebizctg.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।