রোহিঙ্গারা আর দেশে ফিরতে পারবে না!

0

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গা হয়তো আর কখনও নিজ দেশে ফিরতে পারবেন না- এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মিয়ানমারের ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের কার্ডিনাল চার্লস বো। তার আশঙ্কা, বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে রোহিঙ্গাবিরোধী প্রপাগান্ডা ও ঘৃণামূলক বক্তব্যের বাস্তবতায় সেখানে তাদের আর গ্রহণ করা হবে না। এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের আন্তর্জাতিক সহায়তার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার ভ্যাটিকানের মুখপাত্র ক্রাক্স-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তাগিদ দেন।

কার্ডিনাল চার্লস বো তার বক্তব্যে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এই ‘রাষ্ট্রহীন’ মানুষদের জন্য একটি সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি। এ বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কাজ করতে হবে। শুধু বাংলাদেশ বা মিয়ানমারের ওপর বিষয়টি ছেড়ে দিলে চলবে না। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে রোহিঙ্গাবিরোধী প্রচারণা, ঘৃণাত্মক বক্তব্যের মতো উপাদানগুলোর কারণে তাদের ফিরে আসাকে এখানকার মানুষ গ্রহণ করবে না। রোহিঙ্গাদেরও অনেকে ফিরতে চান না। এর কারণ হচ্ছে তাদের মানসিক যন্ত্রণা এবং ফিরে আসার জন্য তারা নিরাপদ বোধ করছেন না।


ছবি: কার্ডিনাল চার্লস বো

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাবিরোধী মনোভাবে কথাও তুলে ধরেন দেশটির ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের এই সর্বোচ্চ ধর্মগুরু। এ সময় তিনি বার্মিজ পার্লামেন্টে দেশটির একজন এমপি’র সাম্প্রতিক এক বক্তব্য তুলে ধরেন। এ বিষয়ে কার্ডিনাল চার্লস বো বলেন, ‘মাত্র দুদিন আগে মিয়ানমারের একজন এমপি বলেছেন, দেশটির ১৩৫টি নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীর মধ্যে ইতিহাসে কখনও রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব ছিল না।

ভ্যাটিকানে সান্টা মার্টা গ্রুপের এক বৈঠকের প্রাক্কালে কার্ডিনাল চার্লস বো-র এই সাক্ষাৎকার নেয় ক্রাক্স। এই সান্টা মার্টা গ্রুপ দুনিয়াজুড়ে মানব পাচারের বিরুদ্ধে কাজ করে। মানব পাচারের মতো বিপর্যয় রোহিঙ্গাদের ওপর প্রায়ই নেমে আসে বলে জানান মিয়ানমারের এ ক্যাথলিক ধর্মযাজক। তিনি বলেন, অতীতের নিপীড়নের কারণে রোহিঙ্গাদের অনেকেই বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এভাবে তারা মানব পাচারের শিকারে পরিণত হয় বলে মনে করেন কার্ডিনাল চার্লস বো।

মিয়ানমারের এই ক্যাথলিক ধর্মযাজক বলেন, রোহিঙ্গাদের পাচারের চেষ্টা করার মতো লোকজন রয়েছে। এই মানুষগুলোকে তারা দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে চায়। পাচারকারীদের নৌকা ডুবে এদের অনেকের মৃত্যু হয়েছে। বার্তা সংস্থা এপি’র সঙ্গে আলাপে চার্লস বো স্বীকার করেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা জাতিগত নিধনযজ্ঞের শিকার হয়েছেন।

ক্রাক্স-কে তিনি বলেন, মিয়ানমারের মাটিতে এসবই ঘটছে। যা ঘটছে তার জন্য আমরা অনুতাপ বোধ করছি। এমনটা হওয়া উচিত নয়। ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি খুবই রাজনৈতিক একটি টার্ম। কিন্তু আমি এই মানুষগুলোর প্রতি দয়াশীল হওয়ার কথা বলবো। তারা রাষ্ট্রহীন মানুষ।

চার্লস বো বলেন, তারা বলছে শুধু মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে যাওয়ার পথেই ৬০০ শিশুর জন্ম হয়েছে। এই অবস্থা দারিদ্র্যপীড়িত এই মানুষগুলোর জন্য, তাদের সন্তানদের জন্য সত্যিই হতাশাজনক। পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই রাষ্ট্রহীন মানুষগুলোকে কীভাবে সাহায্য করা যায় সেদিকে নজর দেওয়া; যারা কারও কাছে নিজেদের প্রত্যাশিত মানুষ হিসেবে দেখেনি।

তিনি বলেন, ‘সব দোষ গিয়ে পড়ছে অং সান সু চি’র নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর। কিন্তু আমি মনে করি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তার অবস্থান বুঝতে হবে। যখন সামরিক বাহিনীর হামলার কথা আসে; তখন সংবিধান অনুযায়ী তার কিছু বলার থাকে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবশ্যই তাকে সমর্থন দিতে হবে। মিয়ানমারে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি গণতন্ত্র বিনির্মাণ অব্যাহত রাখতে পারেন। এ জায়গায় তিনি না থাকলে অবস্থা আবারও আগের জায়গায় ফিরে যাবে।’


এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। ebizctg.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে ebizctg.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।