মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যকারী ইলিয়াস কাঞ্চনও একুশে পদক পাচ্ছেন!

0

একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন একুশজন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পদকের জন্য মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করেছে। সমাজসেবায় এবার সম্মানজনক এই পদক পাচ্ছেন নিরাপদ সড়কের জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা ইলিয়াস কাঞ্চন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদ এবং নির্যাতনের শিকার সাধারণ মানুষের ত্যাগ ও কষ্টের চাইতেও রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন এই প্রাক্তন নায়কের কাছে অধিক পীড়াদায়ক হয়ে উঠেছিল। আর তাই মুক্তিযুদ্ধের সেই অবর্ণনীয় নির্যাতনকে অবমাননা করে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের এক সময়কার কট্টর সমালোচক এবং বিএনপিপ্রেমি এই নায়ককে হঠাৎ করে গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনগুলোর আশে পাশে নিরাপদ সড়কের ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে যেতে দেখা যাচ্ছিলো। তারই সুফল পেতে যাচ্ছেন হয়তো এই পদক তালিকায় নাম যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছিলেন- রোহিঙ্গা দমনের উদ্দেশ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও পুলিশ যে নির্যাতন চালাচ্ছে, তার তুলনায় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়ের তাণ্ডবও অনেক নগণ্য!

গত বছরের ১৪ই সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা ও নির্যাতন বন্ধের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এই মন্তব্য করেন। ওই মানববন্ধনের আয়োজন করে তারই সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)।

উক্ত মানববন্ধনে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘মিয়ানমারের নির্যাতনের চিত্র দেখলে আমি ঘুমাতে পারি না, একাত্তরের যুদ্ধ আমি দেখেছি। সে সময় হানাদার বাহিনী যে ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছিল তা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নির্যাতনের তুলনায় নগণ্য।’

সে সময় তার এমন বক্তব্য নিয়ে ইবিজ সিটিজি ডটকম একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে রোহিঙ্গা নির্যাতনের তুলনায় একাত্তরের তাণ্ডব নগণ্য: ইলিয়াস কাঞ্চন শিরোনামে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর দেশজুড়ে মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী জনতা তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

বিশ্বব্যাপী গণহত্যার তালিকায় জঘণ্যতম হত্যাকান্ড ও ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতার জন্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে শীর্ষে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রচুর গবেষণাকর্মও হয়েছে। কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গার ওপর নির্যাতনকে ইলিয়াস কাঞ্চন কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের চাইতে ভয়াবহ বলে দাবি করেন- এমন প্রশ্ন তুলেছিলেন তখন দেশের সচেতন মানুষ। রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিরুদ্ধে তার অবস্থান অবশ্যই প্রশংসনীয়। তাই বলে এটি কোনভাবেই বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের মতো এতোটা ভয়াবহ নয়, এমনকি তুলনায় আনার মতো বিষয় নয়- এভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা।

সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যক্তিগতভাবে ইলিয়াস কাঞ্চন এবং তার সম্পাদিত অনলাইন পোর্টালের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়। তিনি এমন মন্তব্য করেননি বলে সেখানে দাবি করা হয়। সেদিন তিনি উক্ত মানববন্ধন অনুষ্ঠানে তার সম্পূর্ণ বক্তব্যে আসলে কী কী বলেছিলেন, এমন প্রশ্ন করা হলে তার পোর্টালের প্রতিবেদক কোন মন্তব্য করেননি আর। প্রসঙ্গত, ইলিয়াস কাঞ্চনের এই বক্তব্য সে সময় দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে ফলাও করে প্রচারিত হয়েছিল।

উল্লেখ্য, একুশে পদক বাংলাদেশের একটি জাতীয় এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার (স্বাধীনতা পদকের পর)। বাংলাদেশের বিশিষ্ট ভাষাসৈনিক, ভাষাবিদ, সাহিত্যিক, শিল্পী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক, অর্থনীতিবিদ, দারিদ্র্য বিমোচনে অবদানকারী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পর্যায়ে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি প্রদানের উদ্দেশ্যে ১৯৭৬ সাল থেকে একুশে পদক প্রদান করা হচ্ছে। ভাষা আন্দোলন এর শহীদদের স্মরণে ১৯৭৬ সালে এই পদকের প্রচলন করা হয়।


এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। ebizctg.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে ebizctg.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।