৩ বছরের শিশু শিক্ষক কর্তৃক যৌন নির্যাতনের শিকার: জনতা রাস্তায়

0

নাচের শিক্ষক কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণির এক কন্যা শিশু। অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার একটি বেসরকারি স্কুলের। কলকাতা শহরে দেশপ্রিয় পার্ক কারমেল প্রাইমারি স্কুলে এই ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার এই ইস্যুতে স্কুল চত্ত্বরে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন অভিভাবকরা। তাদের দাবি, এই স্কুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক।

নাচ শেখানোর নামে মাসখানেক ধরেই দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিশুর ওপর ওই শিক্ষক যৌন নির্যাতন চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে শুক্রবার সকাল থেকেই অভিভাবকরা জড়ো হন স্কুলে। নাচের শিক্ষককে তাদের হাতে তুলে দিতে হবে বলেও একাংশ দাবি জানাতে থাকেন।

পুলিশ জানায়, তিন বছরের ওই শিশুটিকে একাধিকবার যৌন নির্যাতন করেছেন ওই শিক্ষক। গতকাল বৃহস্পতিবার শিশুটি তার মা-বাবার কাছে ঘটনাটি জানায়। তারা তাৎক্ষণিক স্কুলে যায় এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।৭

অভিভাবকদের একজন বলেন, ‘শুনেছি ক্লাস টু-এর একটি বাচ্চার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন স্কুলেরই নাচের শিক্ষক। পুরনো শিক্ষকের অবসর গ্রহণের মাত্র কয়েক মাস হলো অভিযুক্ত শিক্ষক যোগদান করেছেন। গোটা স্কুলে উনিই একমাত্র পুরুষ শিক্ষক। প্রায় প্রতিদিনই নাচের ক্লাসে ওই বাচ্চাটাকে নাকি কোলে করে নিয়ে অডিটোরিয়ামে চলে যেতেন নাচের শিক্ষক। ওকে কোলে নিয়ে ঘুরতেন। তার পর যা হয় আরকি…। ওর গোপন অঙ্গে হাত দিতে বাধ্য করতেন বলে শুনেছি। বেশ কিছুদিন ধরেই এ সব নিয়ে কানাঘুষা শুনছিলাম। এমনকি বাচ্চাটাকে এ সব বাড়িতে বলতেও বারণ করেছিলেন ওই শিক্ষক। বাড়িতে বললে ওর অবস্থা খারাপ করে দেবে বলেও নাকি হুমকি দিয়েছিল।’

শুক্রবার স্কুলের সামনে বিক্ষোভ যে বিশাল চেহারা নিয়েছিল, তাতে স্কুল কর্তৃপক্ষের বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। টালিগঞ্জ থানায় খবর পৌঁছায়। দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। বিক্ষোভরত অভিভাবকদের স্কুল চত্ত্বরের বাইরে বের করে দেয়া শুরু হয়। এতে বিক্ষোভ থেমে গিয়েছিল, তা কিন্তু নয়। স্কুল গেটের বাইরেই বিক্ষোভ চলতে থাকে। অবশেষে স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষককে সর্বসমক্ষে আনতে হবে বলে দাবি জানাতে থাকেন বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। কিন্তু তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য স্কুল থেকে বের করার চেষ্টা হতেই ঝাঁপিয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের হাত থেকে অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা হয়, শুরু হয় মারধর। ফলে পুলিশের সঙ্গে অভিভাবকদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায় স্কুল গেটের সামনে। টালিগঞ্জ থানার ওসি সেই ধস্তাধস্তিতেই আহত হন। তবে শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয় পুলিশ। যে শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন হয়েছে বলে অভিযোগ, তাকে এবং তার অভিভাবককেও স্কুল চত্ত্বর থেকে নিয়ে যায় পুলিশ। থানায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নির্যাতিতা শিশুটির মা বয়ান দিয়েছেন। অভিযুক্তকে পকসো আইনে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

অভিযুক্ত এবং নির্যাতিতাকে স্কুল চত্ত্বর থেকে সরিয়ে নেয়া হলেও পরিস্থিতি কিন্তু এখনও স্বাভাবিক হয়নি। স্কুলের সামনেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন অভিভাবকরা। নাচের শিক্ষককে স্কুল থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ যেভাবে লাঠি চালিয়েছে, তার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে।

স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। অভিভাবকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নাচের শিক্ষক যে ক্লাস টুয়ের শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালাচ্ছেন, সে কথা স্কুল কর্তৃপক্ষকে আগেই জানানো হয়েছিল। ক্লাস টিচার সব জানতেন, কিন্তু তিনি কোনও পদক্ষেপ না করে নির্যাতনের প্রমাণ চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

স্কুলে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা। মেয়েদের স্কুলে কেন পুরুষ শিক্ষক রাখা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন তারা। স্কুলে কেন পর্যাপ্ত সিসিটিভি নেই, প্রশ্ন তোলা হয়েছে তা নিয়েও। এ দিন অভিভাবকদের বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা মোটেই ইতিবাচক ছিল না বলেও অনেকের অভিযোগ। যার মেয়ের ওপর নির্যাতন হয়েছে বলে অভিযোগ, তিনি ছাড়া অন্যেরা কেন নাক গলাচ্ছেন, স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে এমন প্রশ্নও তোলা হয় বলে বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা জানিয়েছেন। স্কুলের সামনে অভিভাবকরা যেভাবে অবস্থান করছেন, তাতে আবার পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মাসখানেক আগেই জি ডি বিড়লা এবং এম পি বিড়লা স্কুলে পড়ুয়াদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। তা নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অভিভাবকদের সঙ্ঘাত চরমে পৌঁছায়। সেই ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই দক্ষিণ কলকাতার আরও এক স্কুল উত্তাল হলো একই অভিযোগে। শহরের স্কুলগুলি কি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে আদৌ ভাবছে? প্রশ্ন তুলে দিল কারমেল প্রাইমারি স্কুল।


এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। ebizctg.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে ebizctg.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply