মাতলামি ও অভব্য আচরণের দায়ে শাস্তির মুখে বিসিবির নির্বাচক এহসানুল হক সেজান

0

গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ১২তম আসরে অংশ নিতে দেশ ছাড়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট যুব দল। কিন্তু ঢাকা থেকে নিউজিল্যান্ড যাওয়ার পথে দুবাই ও সিডনি হয়ে ক্রাইস্টচার্চের দীর্ঘ প্রায় ১৪ ঘণ্টার ফ্লাইটে বাংলাদেশ দলকে বিব্রতকর এক পরিস্থিতি ফেলেন সাবেক ক্রিকেটার ও জুনিয়র নির্বাচক এহসানুল হক সেজান। ফ্লাইটে মদ খেয়ে মাতাল অবস্থায় বাংলাদেশ দলের কয়েকজন সদস্যর উপর চড়াও হয়েছিলেন এই জুনিয়র নির্বাচক। এমনকি এক ভিনদেশি কিশোরীকে নিজের ভিজিটিং কার্ড দিয়ে যোগযোগ করতে বলে উত্ত্যক্ত করেছেন বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সফরকারী দলের একজন সদস্য জানান, মদ্যপান করে সেজান এতটাই বেসামাল হয়ে পড়েন যে বিমান থেকে তাকে কয়েকজন মিলে ধরে নামাতে হয়। এক পর্যায়ে সিডনিতে বেসামাল সেজানকে গ্রেফতারের হুমকিও দেয় এমিরেটস কর্তৃপক্ষ। যদিও সে যাত্রায় যুব দলের সঙ্গে হেড অব ডেলিগেশন হিসেবে যাওয়া সাবেক ক্রিকেটার ও প্রধান নির্বাচক মাইনুল হক এবং ম্যানেজার দেবব্রত পালের হস্তক্ষেপে বিব্রতকর সেই পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়। ডানেডিনে পৌঁছেই ফ্লাইটে নির্বাচকের এমন বেসামাল আচরণের কথা সবিস্তারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী এবং গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধান খালেদ মাহমুদকে অবহিত করেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সে সময় সেজানকে দ্রুতই দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়। যদিও পরে বিসিবি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। তবে যুব বিশ্বকাপ শেষে দেশে ফেরার সময় আবারও এক বিব্রতকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ দল। এবার সেই সেজানকে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ এয়ারপোর্টে এমিরেটসের চেক ইন কাউন্টারে বোর্ডিং পাস দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বসে। কোনভাবেই তাকে এমিরেটস তাদের ফ্লাইটে তুলতে রাজি ছিল না। শেষ পর্যন্ত নানাভাবে দেনদরবার করে ২০০৩ সালে বিশ্বকাপ খেলা এহসানুলকে এমিরেটসের ফ্লাইটে তুলেই দেশে নিয়ে আসেন মাইনুল ও দেবব্রত।

তরুণ ক্রিকেটারদের সামনে ঘটা এমন কর্মকাণ্ডে ভীষণ বিব্রত দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট প্রশাসন। এ কারণে শাস্তির মুখেও পড়তে চলেছেন ২০০৩ সালে বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলা এই ক্রিকেটার। এ প্রসঙ্গে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরি দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি সংবাদপত্রকে বলেন, ‘আপনারা যেমন শুনেছেন, তেমনটি আমিও শুনেছি। আমরা হেড অব ডেলিগেশন ও ম্যানেজারের রিপোর্টের অপেক্ষায় আছি। তাদের রিপোর্টে যদি বিষয়টি উল্লেখিত হয় এবং প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে জাতীয় দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ও গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধান খালেদ মাহমুদ সুজন, যুব দলের ম্যানেজার দেবব্রত পাল ও প্রধান নির্বাচক মাইনুল হক প্রকাশ্যে কোন মন্তব্য করতে চাননি।

যদিও পুরো ঘটনাটি অস্বীকার করছেন এহসানুল হক সেজান। তার দাবি, কোনো ধরনের বেসামাল আচরণ করেননি তিনি। এ প্রসঙ্গে জুনিয়র এই নির্বাচক বলেন, ‘আপনারা যে রকম শুনেছেন, ঘটনা কিন্তু ও রকম বড় কিছু নয়। শৃঙ্খলাভঙের কোনো ঘটনাও আমি ঘটাইনি। আসলে সেদিন আমার মাইগ্রেনের ব্যথা উঠেছিল। প্রচণ্ড ব্যথা আমি সহ্য করতে পারছিলাম না বলে কাতরাচ্ছিলাম।’‌

শোনা যাচ্ছে, তরুণ ক্রিকেটারদের সামনে বাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা অনিয়ন্ত্রিত এবং অসংযত এহসানুল হক সেজানকে ইতিমধ্যে অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে ‘ডিমোশন’ দিয়ে অনূর্ধ্ব-১৫ দলের নির্বাচক করা হয়েছে। তবে সেজানের এর চেয়েও কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত বলে মনে করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিচালক, ‘আমরা ওর ওপর খুবই বিরক্ত। আমি যদি আজ মদ খেয়ে মুশফিকদের সামনে মাতলামি করি, তাহলে কিছুতেই সেটি গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত নয়। অবশ্যই কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার।’

অফস্পিন অলরাউন্ডার হিসেবে ২০০২ সালে শ্রীলংকার সাথে টেস্ট অভিষেক ঘটে এহসানুল হক সেজানের। দুই ইনিংসে ৭ রান করলেও কোন উইকেট পাননি। টেস্ট ক্যারিয়ারে মাত্র একটি ম্যাচই খেলেছেন তিনি। ওই একই বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে ওয়ানডে অভিষেক হয় তার। কিন্তু এই ফরম্যাটেও বাংলাদেশের জার্সি গায়ে বেশিদিন খেলা হয়নি এহসানুলের। মোট ৬টি ওয়ানডে খেলেন তিনি। সর্বশেষ ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামেন সেজান। এই ফরম্যাটে ব্যাট হাতে ৫৭ রান আর বল হাতে তার ঝুলিতে রয়েছে ৩ উইকেট।

জাতীয় দলে আলো ছড়াতে না পারলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরমার ছিলেন তিনি। প্রথম শ্রেণীর ৬৩ ম্যাচে ১০টি সেঞ্চুরী ও ২৪টি হাফ সেঞ্চুরিতে ৪,০১৭ রান করেছেন তিনি। বল হাতে নিয়েছেন ৪৬টি উইকেট। এ ছাড়া লিষ্ট এ-র ৭১ ম্যাচে ১টি সেঞ্চুরী ও ৮টি হাফ সেঞ্চুরিতে ১,৫৪২ রান করেন। আর বল হাতে ৪২টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি। ২০১৪ সাল পর্যন্ত ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত পারফরমার ছিলেন তিনি।


এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। ebizctg.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে ebizctg.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।