এতিমখানার নামে খালেদা জিয়ার কাছে আসা টাকার উৎস কী?

0

।। আব্দুল্লাহ হারুণ জুয়েল ।।

১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার কাছে এতিমখানার নামে জঙ্গিবাদের টাকা এসেছিল কি-না তা অমীমাংসিত রয়ে গেছে। টাকা এতিমখানা প্রতিষ্ঠায় আনা হয়েছে – এটি আইনগতভাবে অস্বীকার করার সুযোগ খালেদা জিয়ার নেই। কিন্তু টাকার উৎস নিয়ে কোনো তদন্ত সম্ভবত হয়নি। এর রহস্য ভেদ করলে আরেকটি মামলায় টার্ন নিতে পারে।

গতকাল খালেদা জিয়ার পক্ষে এডভোকেট এ. জে. মোহাম্মদ আলী সৌদি আরব থেকে টাকা আসেনি উল্লেখ করে বলেছেন, ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট খালেদা জিয়া কুয়েতের আমীরকে চিঠি লিখে জানতে চেয়েছেন ৯১ সালে ১২ লাখ ৫৫ হাজার ডলার পাঠানোর উদ্দেশ্য কী ছিল! জবাবে আমীর জানান, জিয়ার স্মৃতি রক্ষায় এতিমখানা স্থাপনের জন্য দিয়েছিল।

যারা খালেদার মামলায় সাক্ষীর কথা বলেন তাদের এতটুকু কাণ্ডজ্ঞান থাকা উচিত যে এতিম, তহবিলে টাকা প্রাপ্তির কথা অস্বীকার করা হয়নি তাই ডকুমেন্টেড বিষয়ে সাক্ষীর উপযোগিতা থাকার কথা নয়।

মূল আলোচনায় আসি। ৯১ সালে কুয়েতের আমীর ছিল সাবাহ আল আহমেদ আল জাবের। বর্তমানের আমীর ২০০৬ থেকে ক্ষমতায় এবং তার নাম জাবের আল আহমেদ আল সাবাহ। এক আমীরের টাকা দেয়ার উদ্দেশ্য কি আরেকজন আমীরের জানার কথা? তিনি জানবেন যদি তা রাষ্ট্রীয়ভাবে দেয়া হয়। অর্থাৎ জিয়ার স্মৃতি রক্ষার্থে দিয়েছে বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়।

টাকার উৎস নিয়ে ব্যাপক রহস্য রয়েছে কারণ খালেদা জিয়া মার্চে ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র দু’মাস পর অনুদান আসে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ১৯৯০ এর আগস্টে ইরাক, কুয়েত দখল করলে জাতিসংঘের আহবানে ৯১ এর এপ্রিল পর্যন্ত ৭ মাস যুদ্ধ চলে। বর্তমান আমীর তখন সৌদিতে পালিয়ে গিয়েছিল। ৯১ সালের ৭ এপ্রিল কুয়েতের আমীর ১৯৯২ সালে নির্বাচন হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ইরাকের সাথে যুদ্ধ হ্‌ওয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক কারণ ছিল ইরাক থেকে পাওনা ১৪ বিলিয়ন ডলার। কুয়েতে স্থিতিশীলভাবে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৯১ এর ১৫ জুন ইরাক সংশ্লিষ্ট ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার মাধ্যমে।
প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশে এতিমখানা প্রতিষ্ঠার জন্য অনুদান দেয়ার মত পরিস্থিতি ও পরিবেশ কি কুয়েতে ছিল?

তাহলে টাকার উৎস কী?

১. জিয়ার ভাঙা ব্রিফকেসের কাহিনী প্রচার করলেও তার বিলাসিতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা অবগত। খালেদা জিয়া কালো টাকা সাদা করার সময় সাভারে জিয়ার কেনা জায়গা ও এফডিআরের কথা উল্লেখ করেছিলেন। সম্ভবত জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে লুটপাট করে যে টাকা পাচার করেছিল, এতিম তহবিলের নামে সে টাকা দেশে আনা হয়।

২. আইএসআই পাকিস্তান ও আফগান সীমান্তে অবৈধভাবে পপি চাষ করে বিপুল পরিমান অর্থ উপার্জন করে, যার একটি অংশ জঙ্গিবাদ প্রসারে সহযোগিদের দেয়া হয়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আইএসআই কর্তৃক ৫০ কোটি রূপি দেয়ার যে তথ্য ফাঁস হয়েছিল তার একটি অংশ এতিমখানার নামে আনা হয়।

টাকা প্রাপ্তির উৎস উপরোক্ত দুটির যেটিই হোক, তাতে অবশ্যই ভূমিকা রেখেছে ১৯৯০ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত সৌদি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাকিস্তানী শওকত আজীজ।

বিষয়টি দাঁড়াচ্ছে এমন:

যেহেতু রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে উক্ত টাকা এতিমখানার নামে এসেছিল তাই তহবিল আত্মসাতের অভিযোগে চলমান মামলা সম্পন্ন হতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এ টাকার উৎস যদি কুয়েতের আমীর না হন তাহলে মানিলন্ডারিং, জঙ্গিবাদ ও মিথ্যাচার ইত্যাদি অভিযোগে মামলা এবং তদন্ত হওয়া উচিত।

খালেদার বিচার কার্যক্রমে এতিমের টাকা চুরি নিয়ে যে যুক্তি দেয়া হয় তা হচ্ছে এক্স, ওয়াই, জেড শত কোটি টাকা চুরি করেছে, খালেদা করলে সমস্যা কী! এক্স মামলা ১৫ বছর ধরে চলছে, এতে তাড়া কেন? এসব আসলে কুযুক্তি। এক কোটি হোক, আর একশ কোটি হোক অপরাধ সংগঠিত হয়েছে আত্মসাতের। ২০১৪ সালে খালেদার আইজীবীরাই দাবি করেছিল- এই মামলায় দীর্ঘসূত্রিতা হচ্ছে। আরো হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে বিশ্বজিতের মামলার নিম্পত্তি দ্রুত হলো কেন- এমন যুক্তি কি গ্রহণযোগ্য?

বিপরীতে শেখ হাসিনার মামলার প্রসঙ্গ আনা হয়। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে শুধু অভিযোগ ছিল যা অভিযোগকারীই প্রত্যাহার করে।

বাংলাদেশ ছাড়া অন্য যে কোনও দেশ হলে অভিযুক্ত খালেদা-তারেক রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করতো। অথচ কি আজব দাবি আমাদের- দুর্নীতি করলেও সাজা দেয়া যাবে না! একজনের পক্ষে কিছু জনমত থাকলেই বিচার হবে না! খালেদা-তারেকের দুর্নীতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এদের সাজা না হলে খারাপ একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে!

* আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল এর অন্য লেখাগুলো পড়তে ক্লিক করুন।

পরিচিতি: ব্লগার, লেখক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট


এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। ebizctg.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে ebizctg.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply