ইন্টারনেট ব্যাণ্ডউইডথের দাম কমলো: ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো, সাধারণ গ্রাহকের কপালে ‘শূণ্য’

0

ইন্টারনেট ব্যাণ্ডউইডথের দাম কমানো হলো। তবে সাধারণ ব্যবহারকারী পর্যায়ে এর কোনও প্রভাব পড়বে না, কপাল খুলবে শুধু ব্যবসায়ী গ্রাহকদের। যদিও ক’দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, দেশে ইন্টারনেটের দাম কমছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার সম্প্রতি আশ্বাস দিয়েছিলেন— ইন্টারনেটের দাম কমানোর জন্য উদ্যোগ নেবেন তিনি। মূল্য বেঁধে দেবেন ইন্টারনেটের। কিন্তু ইন্টারনেটের নয়, সরাসরি দাম কমানো হলো ব্যাণ্ডউইডথের।

দেশে সরকারিভাবে ব্যাণ্ডউইডথ সরবরাহ করে সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)। প্রতিষ্ঠানটি আগের ব্যাণ্ডউইডথে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ দাম কমিয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন দাম কার্যকরও হয়েছে। বিএসসিসিএল-এর নতুন দাম পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ঢাকায় প্রতি মেগা (মেগাবাইট পার সেকেন্ড) ব্যাণ্ডউইডথ কিনতে খরচ পড়বে ৪২৫ থেকে ৪৩৫ টাকা। এই দামে কিনতে হলে ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়েকে (আইআইজিগুলো) বিএসসিসিএল থেকে ন্যূনতম ৩০ জিবি ব্যাণ্ডউইডথ নিতে হবে। ঢাকায় এর দাম পড়বে ৬১০ টাকা। অন্যদিকে কক্সবাজারে প্রতি মেগা ব্যাণ্ডউইডথের দাম হবে কমপক্ষে ৩১০ টাকা। এই দামে পেতে হলে আইআইজিগুলোকে অন্তত ৫০ জিবি ব্যাণ্ডউইডথ কিনতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাণ্ডউইডথের দাম কমানো হলেও ব্যবহারকারী পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম কমবে না। এমনকি ব্যাণ্ডউইডথের মূল্য একেবারে শূন্য করা হলেও ইন্টারনেটের দামে এর কোনও প্রভাব পড়বে না। আবার একটি পক্ষ বলছে, ভারতে রফতানি করা ব্যাণ্ডউইডথের দামের মধ্যে ভারসাম্য আনতেই দেশীয় বাজারে মূল্য কমানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি’র সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক বলেন, ‘এই দাম কমানোতে ব্যবহারকারী পর্যায়ের গ্রাহকদের কোনও লাভ হয়নি। যা লাভ হয়েছে তা ব্যবসায়ীদের।’

দুই এনটিটিএন অপারেটরকে (ব্যাণ্ডউইডথ ট্রান্সমিশন প্রতিষ্ঠান) ইঙ্গিত করে আইএসপিএবি’র সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ‘প্রতিষ্ঠান দুটি মোট সরবরাহকৃত ব্যাণ্ডউইডথের ৫০ শতাংশের বেশি বিএসসিসিএল-এর কাছ থেকে কিনে থাকে। ফলে যে ভলিউমে ব্যাণ্ডউইডথ বিক্রি করার কথা বলা হয়েছে তা কোনও সাধারণ মানুষের পক্ষে কেনা সম্ভব নয়।’

ইমদাদুল হক উল্লেখ করেন, আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোও এই দাম কমানোর কোনও সুফল পাবে না। কারণ আইএসপিগুলোকে আইআইজির কাছ থেকে ব্যাণ্ডউইডথ কিনতে হয়। তার ভাষ্য, ‘ট্রান্সমিশন কস্ট (ব্যাণ্ডউইডথের পরিবহন খরচ) না কমিয়ে কেবল ব্যাণ্ডউইডথের দাম কমালে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা কখনোই কম দামে ইন্টারনেট পাবে না।’

আইএসপিএবি’র সাধারণ সম্পাদক জানান, আইএসপিগুলোর মোট খরচের মাত্র ৫ থেকে ৮ শতাংশ টাকা ব্যাণ্ডউইডথ কিনতে খরচ হয়। অবশিষ্ট খরচ হয় ট্রান্সমিশন খরচ, অফিস ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, ক্যাবল লাইন তৈরি ইত্যাদিতে। ফলে ব্যাণ্ডউইডথের দাম কমালেও তা গ্রাহক পর্যায়ের দামে কোনও প্রভাব পড়বে না।

জানা যায়, ২০০৪ সালের এক মেগা ব্যাণ্ডউইডথ ৭২ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে এর মূল্য ৬০০ টাকারও নিচে। গত ১৪ বছরে প্রতি মেগা ব্যাণ্ডউইডথে ৭১ হাজার ৪০০ টাকা দাম কমলেও ব্যবহারকারী পর্যায়ে সেই অনুপাতে ইন্টারনেটের দাম কত টাকা কমেছে সেই প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, ইন্টারনেটের দাম সেই অর্থে খুব একটা না কমলেও গতি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কয়েক গুণ।

গত ৪ জানুয়ারি তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার আইসিটি বিভাগের একটি অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘মোবাইল ফোনের ভয়েস কলের মূল্যসীমা বেঁধে দেওয়া হলেও ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনও সীমা নেই। ফলে যে যার ইচ্ছেমতো দামে ইন্টারনেট বিক্রি করছে। আমি ইন্টারনেটের মূল্যসীমা (উচ্চসীমা ও নিম্নসীমা) বেঁধে দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেবো। ইন্টারনেটের ব্যাণ্ডউইডথ কিনে ডাটা বিক্রি করা যাবে না। গ্রাহক যদি ব্যাণ্ডউইডথ কিনতে চায়, তাহলে তাদের জন্য সেই সুযোগ থাকতে হবে। ইন্টারনেট মৌলিক অধিকারগুলোর একটি। এই অধিকার যেন মানুষের কাছে থাকে, আমি সেই চেষ্টা করবো।’

কিন্তু মন্ত্রীর এসব কথার পরও ইন্টারনেটের দাম না কমে ব্যাণ্ডউইডথের মূল্য কমলো।

বর্তমানে দেশে ব্যবহার হচ্ছে ৫৫৭ জিবিপিএসর মতো ব্যাণ্ডউইডথ। এর মধ্যে সাবমেরিন ক্যাবল কক্সবাজারের মাধ্যমে আসছে ২৩২, সেকেন্ড সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে ১২০ ও অবশিষ্ট ২০৫ জিবিপিএস আসছে ভারত থেকে ৬ আইটিসির (ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল) মাধ্যমে।


এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। ebizctg.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে ebizctg.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।